জুইয়ের এই যাত্রার শুরুটা ছিল একেবারেই শখের বশে। বরাবরই তার পোশাক নির্বাচন এবং সাজগোজের প্রশংসা করতেন আশেপাশের সবাই। পরিচিতজনরা প্রায়ই জানতে চাইতেন, তার পোশাকগুলো কোথা থেকে নেওয়া। এমনকি অনেকে একই ধরনের পোশাক নেওয়ার আগ্রহ দেখাতেন। সবার এই ইতিবাচক সাড়াই জুইয়ের মনে একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্ম দেয়।
পরিকল্পনাটি তিনি শেয়ার করেন তার প্রিয়জনের সাথে। তার পূর্ণ সমর্থনে দেরি না করে ৬ জুন ২০২৪ সালে- ফেসবুক পেজ খোলার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। মজার ব্যাপার হলো, সেই মুহূর্তে জুইয়ের কাছে পুঁজি হিসেবে ছিল মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। সামান্য সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয়েছিল ‘জুই’স ক্লোথিং কর্নার’। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পান তিনি। পেজ খোলার সাথে সাথেই চলে আসে প্রথম দুটি অর্ডার। সেই শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
ব্যবসার শুরু থেকেই জুই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন কাপড়ের গুণগত মান এবং ফিনিশিংয়ের ওপর। তিনি জানান,
"আমি সবসময় চেষ্টা করেছি সেরা মানের পণ্যটি গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিতে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন নতুন গ্রাহকের চেয়ে আমার নিয়মিত ও রিপিট কাস্টমার অনেক বেশি। মানুষের এই ভালোবাসা আমাকে প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে।"
সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পেছনে জুই তার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তার প্রিয়জনের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রিয়জন সবসময় মানসিকভাবে এবং সব দিক দিয়ে তাকে সাপোর্ট করেছেন। প্রিয় মানুষের এই অকুন্ঠ সমর্থন আর নিজের অদম্য পরিশ্রমের ফসলই আজকের এই ‘জুই’স ক্লোথিং কর্নার’।
বর্তমানে একটির পর একটি অর্ডার সামলাতে গিয়ে জুইকে এখন আর অলস বসে থাকতে হয় না। তার এই গল্প আজ অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণা। বড় কোনো পুঁজি নয়, বরং সৃজনশীলতা আর সততা থাকলে যে কেউ ঘরে বসেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারেন, জুই তার অনন্য উদাহরণ।
আব্দুল্লাহ আল মাহীদ